Discover the top 10 driest country in the world: শত শত বছর ধরে বৃষ্টিপাত হয়নি, এমনও জায়গা আছে বিশ্বে! তীব্র সূর্যালোক, উল্লম্ব রশ্মি এবং বৃষ্টিহীন গ্রীষ্ম কাবু করেছে এই দেশগুলোকে। আরব উপদ্বীপ এবং সাহারা মরুভূমির কাছাকাছি অবস্থিত বেশিরভাগ মুসলিম দেশগুলি বিশ্বের সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত দেখে। যদিও এর কারণ তাদের ভৌগোলিক অবস্থান। তাদের উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু দেশের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেও, তা খুবই কম।
শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় শীর্ষে মিশর-Discover the top 10 driest country in the world
সর্বনিম্ন গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের ১০ দেশের তালিকায় মিশর শীর্ষে। ১৮ মিলিমিটার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হয় সেখানে। আবার, চিলির আতাকামা মরুভূমির মতো অঞ্চলগুলি বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে, যেখানে কিছু জায়গায় শত শত বছর ধরে বৃষ্টিপাত হয়নি। ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস রিপোর্ট অনুসারে, লিবিয়া তার পরেই রয়েছে, যেখানে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫৬ মিলিমিটার। চলুন বাকি দেশ কোনগুলো জেনে নিই।
বিশ্বের ১০টি শুষ্কতম দেশ-Discover the top 10 driest country in the world
| ক্রম | দেশ | বার্ষিক বৃষ্টিপাতের গড় |
|---|---|---|
| ১ | মিশর | ১৮ মিমি |
| ২ | লিবিয়া | ৫৬ মিমি |
| ৩ | সৌদি আরব | ৫৯ মিমি |
| ৪ | কাতার | ৭৪ মিমি |
| ৫ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৭৮ মিমি |
| ৬ | বাহরাইন | ৮৩ মিমি |
| ৭ | আলজেরিয়া | ৮৯ মিমি |
| ৮ | মৌরিতানিয়া | ৯২ মিমি |
| ৯ | জর্ডন | ১১১ মিমি |
| ১০ | কুয়েত | ১২১ মিমি |
১. মিশর
পূর্ব সাহারায় অবস্থিত মিশর বৃষ্টির জন্য আকুল। শীতকালে মূলত ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে খুব হালকা বৃষ্টিপাত হয়। আবার লুক্সর এবং আসওয়ানের মতো শহরগুলিতে সারা বছর প্রায় বৃষ্টিপাত হয় না। নিয়মিত গরম, শুষ্ক বাতাস এবং বালির ঝড় জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। লোহিত সাগরের তীরে, সমুদ্রের তাপমাত্রা যদিও খুব কম থাকে।
২. লিবিয়া
অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে খুব কম বৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সিদ্রা উপসাগরের আশেপাশে, সারা বছর খরা। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়শই ৩৫-৪১° সেলসিয়াস, ৪৮° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। গরম, শুষ্ক ঘিবলি বাতাস মাটি এবং বাতাসকে আরও শুষ্ক করে বৃষ্টিকে বাধা দেয়।
৩. সৌদি আরব
বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্কতম দেশগুলির মধ্যে সৌদি আরবে, বার্ষিক বৃষ্টিপাত সাধারণত ৫০-১৫০ মিমি। এখানে কোনও পুরনো নদী নেই, যা আছে কেবল জলাভূমি রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলি আর্দ্র কিন্তু শুষ্ক। আর দক্ষিণ-পশ্চিম পাহাড়গুলিতে ২৫০ মিমি এর বেশি বৃষ্টিপাত হয়। খুব বিরল পরিস্থিতিতে গরমকালেও বৃষ্টির সাক্ষী থাকে সৌদির মানুষ।
৪. কাতার
প্রায় ৭৫ মিমি বার্ষিক বৃষ্টিপাত হয় এখানে। প্রায়শই ৪২-৪৩° সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালকে অসহনীয় করে তোলে। এ দেশে বিরাজমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাতাস বৃষ্টি ছাড়াই আর্দ্রতা নিয়ে আসে। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কার্যত কোনও বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকাল বেশিরভাগ শুষ্ক থাকে।
৫. সংযুক্ত আরব আমিরাত
বালির সমুদ্র আর মরুভূমির এখানকার বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০ মিমি এর কম রাখে। বৃষ্টিপাত বিরল কিন্তু তীব্র হওয়ায় আবার বন্যার সৃষ্টি করে। এপ্রিল-অক্টোবরের প্রচণ্ড তাপ অস্বস্তি বাড়ায়। তীব্র বসন্তে বালির ঝড় ডেকে আনে। আল হাজার পর্বতমালায় শীতকালীন বৃষ্টিপাত হয়।
৬. বাহরাইন
অবিরাম রোদ, বিরল বৃষ্টিপাত এবং প্রচণ্ড তাপের কারণে এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ৮৩ মিমি এবং এটি মূলত নভেম্বর-এপ্রিল মাসে হয়। আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। মে থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত, তাপমাত্রা প্রায়শই ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এখানকার বসন্ত এলাকাকে আরও শুষ্ক করে তোলে।
৭. আলজেরিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক দেশগুলির মধ্যে একটি আলজেরিয়ার বেশিরভাগ ভূখণ্ড সাহারায় অবস্থিত। এখানেও বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম, প্রায়শই বছরে ১০০ মিমি এর নিচে এবং প্রায়শই ৫০ মিমি এর নিচে থাকে। শুধুমাত্র ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল এবং উত্তর পর্বতমালায় মৌসুমী বৃষ্টিপাত হয়। বিশেষ করে ইন সালাহর মতো মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলগুলি গরম এবং শুষ্ক থাকে।গ্রীষ্মকালে মরুদ্যানে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪০-৪৬ °সে এবং রেকর্ড ৫০-৫১ ° সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়।
৮. মৌরিতানিয়া
বালির ঝড় হয় এবং গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০-৪২° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়এই দেশে। আটলান্টিক উপকূলেও খুব কম বৃষ্টিপাত হয়। যদিও এর শীতল স্রোত এবং সমুদ্রের বাতাস তাপমাত্রাকে কমিয়ে দেয়, কিন্তু বৃষ্টি হয় না।
৯. জর্ডান
শীতকালে বন্যা হয় আর গরমে ভয়াবহতা। গ্রীষ্মকাল গরম, রৌদ্রোজ্জ্বল এবং কার্যত বৃষ্টিপাতহীন জর্ডান। এর বেশিরভাগ অঞ্চল, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, কেন্দ্রীয় মালভূমি, জর্ডান উপত্যকা এবং বিশেষ করে মৃত সাগর অববাহিকায়, বার্ষিক ১০০ মিমি-এরও কম বৃষ্টিপাত হয়। শুধুমাত্র উত্তর-পশ্চিম মালভূমিতে ২৫০-৪৫০ মিমি বৃষ্টি হয়। তাও আবার মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম স্থায়ী হয়।
১০. কুয়েত
অবিরাম রোদ, ন্যূনতম সামুদ্রিক প্রভাব এবং খুব কম বৃষ্টিপাত কুয়েতের জনজীবনকে বিপাকে ফেলেছে। এখানে বছরে মাত্র ১০০-১১৫ মিমি বৃষ্টিপাত হয় এর উপ-ক্রান্তীয় মরুভূমির জলবায়ুর কারণে। গ্রীষ্মকালে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ৪৬-৪৭° সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং রাতের তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৩০° সেলসিয়াস। আরবের অভ্যন্তর থেকে আসা বাতাস গরম, শুষ্ক বাতাস এবং ঘন ঘন বালির ঝড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রায়শই ১০% এর নিচে নামিয়ে দেয়। এখানে সমুদ্রের জলও খুব কম থাকে।
