Check Out How to Protect Eyes from Mobile Screen: আধুনিক কর্মজীবনে, দিনের বারো ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে কাটাতে বাধ্য হই। এছাড়াও, স্মার্টফোনের স্ক্রিনে আমরা গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করি। আমাদের শরীর এমন কাজের জন্য তৈরি নয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমরা আমাদের চোখের যথাযথ যত্ন নিই না।
কিন্তু কম্পিউটারের আলো প্রকৃতপক্ষে আমাদের চোখের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষত যখন কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের সামনে থাকতে হয়, তখন চোখকে রক্ষা করার জন্য আমরা কী করতে পারি? নিচে, ডিজিটাল চোখের স্ট্রেইন নিয়ে আলোচনা করা হল এবং ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচানোর কয়েকটি সহজ উপায় বর্ণনা করা হল।
‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ এবং আপনার কম্পিউটার স্ক্রিন
কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম, যা ডিজিটাল আই স্ট্রেইন (digital eye strain) নামেও পরিচিত, এটি কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমষ্টি। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা আপনার চোখকে অনেক বেশি কাজ করতে বাধ্য করে – যা মুদ্রিত কিছু পড়ার চেয়ে আলাদা।
যখন আপনি কোনও স্ক্রিনে শব্দ পড়েন, তখন অক্ষরগুলো খুব স্পষ্ট হয় না। ফলস্বরূপ, ডিজিটাল স্ক্রিনে আপনার চোখকে ফোকাস করতে এবং নাড়াচাড়া করতে বেশি কষ্ট হয়, যা আপনার অপটিক্যাল সিস্টেমের ওপর অনেক বেশি চাপ ফেলে। যদি আগে থেকেই আপনার দৃষ্টিজনিত কোনো সমস্যা থাকে, তবে এই লক্ষণগুলো আরও খারাপ হতে পারে। যাদের দৃষ্টি সমস্যা আছে যা সংশোধন করা হয়নি অথবা সঠিকভাবে সংশোধন করা হয়নি, তাদের ডিজিটাল চোখের ক্লান্তি অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি।
চশমা ব্যবহার করলে আপনি হয়তো দেখবেন যে, কম্পিউটার স্ক্রিন খুব কাছে এনেও আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে দেখতে পারছেন না। এক্ষেত্রে আপনি চশমা সামান্য কাত করতে পারেন অথবা আপনার মাথাকে অস্বাভাবিক অবস্থানে রাখতে পারেন। এর ফলে পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা এমনকি পেশিতে টানও লাগতে পারে। তাই লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখা এবং দ্রুত এর প্রতিকার করা খুবই জরুরি।
চোখের স্ট্রেইন-এর লক্ষণ
ডিজিটাল আই স্ট্রেইন অথবা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে উল্লেখ করা হল-
- চোখের স্ট্রেইন
- ঝাপসা দৃষ্টি
- শুকনো চোখ
- মাথাব্যথা
- মনোনিবেশ করতে অসুবিধা
- ঘাড়, পিঠ বা কাঁধ ব্যথা
- চোখে জ্বালা ভাব
- আলোর প্রতি উচ্চতর সংবেদনশীলতা
- চোখের ক্লান্তি (এবং আপনার চোখ খোলা রাখতে অসুবিধা)
- ডাবল ভিশন
- চোখ লালভাব
বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন লক্ষণ এবং তীব্রতা অনুভব করতে পারে। এটি মূলত তাদের নিজস্ব অনন্য ভিজ্যুয়াল ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল, সেইসাথে তারা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কতটা সময় ব্যয় করে তার উপরও নির্ভর করে। যদি আপনার অ্যাস্টিগম্যাটিজমের মত ভিজ্যুয়াল অবস্থা থাকে, তবে আপনি আরও খারাপ লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। তবে ভালো খবর হল, কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে আপনার চোখকে বাঁচানোর উপায় আছে এবং সেগুলো অর্জন করা খুব একটা কঠিন নয়।
কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে আপনার চোখকে রক্ষা করার উপায় (Check Out How to Protect Eyes from Mobile Screen)
২০/২০/২০ নিয়ম
আপনার চোখ সারাদিন ধরে খুব কাছ থেকে কিছু দেখার জন্য তৈরি করা হয়নি সুতরাং, আপনি যদি আপনার দৈনন্দিন জীবনে ২০/২০/২০ নিয়মটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তবে আপনার চোখের স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকারএ ধকল থেকে আপনার চোখকে মুক্তি দিতে পারেন।
২০/২০/২০ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য আপনার থেকে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এক্ষেত্রে, ২০ ফুট মানে প্রায় ছয় মিটার।
সঠিক আলো নিশ্চিত করুন
চোখের ক্লান্তি প্রায়শই অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোকের কারণে হয়ে থাকে তা বাড়ির ভেতর কিংবা বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন। যখন আপনি কোনও ফোন অথবা কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তখন এর ব্যাকগ্রাউন্ডের আলো আপনার কর্মস্থলের স্বাভাবিক আলোর চেয়ে অর্ধেক উজ্জ্বল হওয়া উচিত।
একটি ভাল কম্পিউটার মনিটর ব্যবহার করুন
যদি সম্ভব হয়, আপনার পুরনো মনিটরের (যা CRT মনিটর হতে পারে) পরিবর্তে একটি LED (light-emitting diode) স্ক্রিন ব্যবহার করুন, যেটিতে নন-রিফ্লেক্টিভ (অ-প্রতিফলক) সারফেস রয়েছে। পুরনো সিআরটি মনিটরগুলোতে ছবির কাঁপুনি ডিজিটাল চোখের ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।
ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন
আপনি হয়ত লক্ষ্য করেন না, তবে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম চোখের পলক ফেলেন। চোখের পলক ফেলা অত্যাবশ্যকীয়, কেননা এটি চোখকে ভেজা রাখে এবং অস্বস্তি ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। কম পলক ফেললে চোখের জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়, যা ডিজিটাল আই-স্ট্রেইনের একটি সাধারণ লক্ষণ। প্রতি ২০ মিনিটে ১০ বার চোখের পলক ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চোখের পলক ফেলার সময় এমনভাবে বন্ধ করুন যেন মনে হয় আপনি ঘুমিয়ে পড়ছেন।
ঘন ঘন বিরতি নিন
ঘন ঘন বিরতি নেওয়া শুধু আপনার চোখের স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী নয়, বরং আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। Computer Vision Syndrome এবং সেই সাথে কাঁধ, পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা কমাতে ঘন ঘন বিরতি গ্রহণ করুন। প্রতি ঘন্টায় কমপক্ষে ১০ মিনিটের বিরতি নিন। উঠে দাঁড়ান, শরীর ঝাঁকান এবং হাত, পা, পিঠ ও কাঁধ স্ট্রেচ করুন।
একটি স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন
ক্ষতিকারক নীল আলো থেকে চোখ রক্ষা করার জন্য আপনি বিশেষভাবে তৈরি করা স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করতে পারেন (মোবাইল এবং কম্পিউটারের জন্য)। উদাহরণস্বরূপ, টেম্পারড গ্লাস দিয়ে তৈরি কিছু স্ক্রিন প্রোটেক্টর স্মার্টফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকারক নীল আলোর প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত ফিল্টার করতে সক্ষম।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা এবং নাইট মোড অ্যাডজাস্ট করুন
এই নিয়মটি আপনার কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোন উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমালে চোখের উপর চাপ কিছুটা কম হতে পারে। আপনার ফোনে ‘নাইট মোড’ চালু করতে পারেন, যা স্ক্রিন থেকে নির্গত হওয়া নীল আলোর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। দিনেও ‘নাইট মোড’ ব্যবহার করা ভালো। তবে রাতে এটি নীল আলো সম্পূর্ণরূপে দূর করতে পারে না।
নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার
কম্পিউটারের পর্দা থেকে চোখকে বাঁচানোর জন্য নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার করা একটি চমৎকার উপায়। এই চশমাগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের যে ক্ষতি হয়, তা কমানো যায় এবং ক্ষতিকারক নীল আলোর প্রভাব থেকে চোখকে রক্ষা করা যায়।
