Bangladesh Unrest & Visa Worry for City Traders: নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আগরতলার বাংলাদেশ মিশনে ভিসা ও কনস্যুলার পরিষেবা প্রদান স্থগিত হওয়ার কারণে কলকাতার রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকেরা প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন।
ভিসা স্থগিতের জের ভারত-বাংলাদেশ ব্যবসায়- Bangladesh Unrest & Visa Worry for City Traders
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি চামড়া আমদানি করা হলেও সেখানে বিপুল পরিমাণে পোশাক, তুলা, শাকসবজি এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়।
চামড়া রপ্তানি কাউন্সিলের (পূর্ব অঞ্চল) আঞ্চলিক কমিটির সদস্য জিয়া নাফিস জানান, “প্রতি বছর কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স ও কসবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকার ফিনিশড চামড়া আমদানি করা হয়। এই ফিনিশড চামড়া মূলত ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এখানে যে চামড়া পাওয়া যায়, তার চেয়ে গুণগত মান ভিন্ন হওয়ার পাশাপাশি দামেও সস্তা হওয়ায় এটি আমদানি করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে চিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির সময় আমদানিকারকেরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তেমন সমস্যা আবার হতে পারে।”
“চামড়া একটি প্রাকৃতিক পণ্য হওয়ায় ব্যাচ অনুযায়ী এর গুণগত মান ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আমদানির আগে ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। পণ্য পরিদর্শনের জন্য ভিসা না পেলে গুণগত মান খারাপ হতে পারে। বাণিজ্য সহজ করার জন্য যাত্রা সহজ হওয়া উচিত”, নাফিস যোগ করেন।
নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আগরতলার তাদের মিশন অফিসের বাইরে বিক্ষোভের পর সোমবার ভিসা ও কনস্যুলার পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। দিল্লির ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভে অবস্থিত হাইকমিশন ও আগরতলার সহকারী হাইকমিশনের বাইরে এই স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত নোটিস টাঙানো হয়েছে।
পোশাক রপ্তানির ভরা মরসুমে স্থগিতাদেশ
রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পোশাক রপ্তানির একেবারে ভরা মরশুমে এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
একজন রপ্তানিকারক এজেন্ট জানান, “ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ঈদ পর্যন্ত পোশাকের চাহিদা খুব বেশি থাকে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০ টন পোশাক রপ্তানি করা হয়।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইন্ডিগো পরিচালিত একটি কার্গো ফ্লাইট শুধুমাত্র পোশাক পরিবহন করে এবং আরও বেশি কার্গো ফ্লাইটের প্রয়োজন রয়েছে।
বেঙ্গানি কমোডিটিজের পরিচালক ও ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের (পূর্বাঞ্চল) প্রাক্তন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান বিমল বেঙ্গানি বলেন, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা কমে গিয়েছে।
তিনি বলেন, “আগে আমি প্রতি মাসে বাংলাদেশে যেতাম। কিন্তু গত বছর একবারও যাওয়া হয়নি। বাণিজ্য কমে গিয়েছে।” আগে প্রতিদিন ১,৬০০ ট্রাক বাংলার স্থলসীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যেত, এখন তা কমে ৮০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে। সমস্যা সমাধান ও নতুন বাজার খোঁজার জন্য ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দেখা করা খুব দরকারি।”
বেঙ্গানি বাংলাদেশে পোল্ট্রি ফিড, মশলা ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বিশ্বাস, যোগাযোগ ও উন্নতির অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। আমরা নিরাপত্তার বিষয়টিকে সম্মান করি এবং আলোচনার মাধ্যমে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাই। ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য ভ্রমণকারীদের অবাধ চলাচল দুই দেশের রপ্তানিকারক ও কর্মসংস্থানের জন্য খুবই জরুরি। সহযোগিতা উভয় অর্থনীতির জন্যই লাভজনক।”
বিমান পরিষেবায় যাত্রী হারানোর শঙ্কা
কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিলে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রী হারানোর আশঙ্কা করছে। বাংলাদেশি বিমান সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, “যাত্রী কম থাকার কারণে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে গিয়েছে। বর্তমানে যে ফ্লাইটগুলো চলছে, তাতে ভালো সংখ্যক যাত্রী রয়েছে। তবে ভিসা নিয়ে সম্ভাব্য বিধিনিষেধের কারণে আমরা চিন্তিত।”