SIR Process Starts in West Bengal & Know the Steps: আগামীকাল, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যা SIR (Special Intensive Revision) নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনেও কিছু চিন্তা দেখা দিয়েছে। তবে চিন্তিত না হয়ে, এই সময়ে সঠিক তথ্যগুলো জেনে নেওয়া দরকার। কারণ SIR একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর কিছু নিয়মকানুন আছে, যা প্রত্যেক নাগরিকের জানা আবশ্যক।
SIR কী? কেন এই সংশোধন?
ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের বিশেষ অভিযান হল SIR, যার মূল লক্ষ্য হল মৃত, জাল (Invalid) এবং অন্য রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। অন্যদিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা। বিহারে প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর, বাংলাসহ ১২টি রাজ্যে এই নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
বাংলায় SIR প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে? (SIR Process Starts in West Bengal & Know the Steps)
আগামীকাল, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বাড়ি বাড়ি গণনা পর্ব। এই সময়কালে, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা (Booth Level Officers) প্রতিটি বাড়িতে যাবেন। ভোটারদের একটি করে এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) দেওয়া হবে। ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ফর্মটি পূরণ করে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে।
এরপর ৯ই ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নোটিশ প্রদান, শুনানি এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের ৯ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে।
নথি দেখানো নিয়ে কি নিয়ম রয়েছে?
- যেসকল ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাদের কোনও নথি প্রদর্শনের প্রয়োজন নেই।
- এছাড়া, যাদের বাবা-মায়ের নাম সেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাদের শুধুমাত্র বার্থ সার্টিফিকেট এবং অভিভাবকের ভোটার তালিকায় নাম দেখালেই হবে।
- এই ক্ষেত্রে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা যাচাই করার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে, সেটি হল ceowestbengal.wb.gov.in। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের অথবা পরিবারের সদস্যদের নাম খুঁজে দেখতে হবে।
যাদের নথি দেখাতে হবে
যে সকল ভোটারের নাম বা তাদের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাদের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট কাগজপত্রের মধ্যে যেকোনও একটি প্রমাণ হিসেবে দেখাতে হবে-
- বার্থ সার্টিফিকেট
- পাসপোর্ট
- আধার
- মাধ্যমিক বা আরও উচ্চতর কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট
- কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কর্মী বা পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র বা পেনশন পেমেন্ট অর্ডার
- ব্যাঙ্ক, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা পিএসইউ-এর দেওয়া কোনও পরিচয়পত্র
- ব্যাঙ্ক বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া কোনো পরিচয়পত্র
- জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনপত্র (NRC)
- বন-অধিকার সনদ
- ওবিসি/এসটি/এসসি বা অন্য যে কোনো জাতিগত সংশাপত্র
- রাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তৈরি পরিবার নিবন্ধন
- জমি বা বাড়ির দলিল
তবে এই নথিগুলি ছাড়াও আপনি ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে পারেন। পরবর্তীতে আপনাকে শুনানির জন্য ডাকা হবে। আপনার সাথে কথা বলে এবং কাগজপত্র যাচাই করে যদি মনে হয় আপনি যোগ্য ভোটার, তাহলে চূড়ান্ত তালিকায় আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।