3 More Infected with Nipah Virus in West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে আরও অন্তত তিনজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে আছেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী। এ নিয়ে নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল- 3 More Infected with Nipah Virus in West Bengal
আক্রান্ত প্রথম দুই রোগী হলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একজন পুরুষ নার্স এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের একজন মহিলা নার্স, যিনি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন, তিনি এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন বারাসতের সেই একই বেসরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। বাকি দুজন হলেন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের একজন নার্স ও একজন কর্মী, যারা ওই মহিলা নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাদের বেলেঘাটার সংক্রামক রোগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ১০০ জন কোয়ারেন্টাইনে
সোমবার প্রথম দুজন নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত দু’দিনে প্রায় ১০০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে।
স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম বলেন যে সরকার সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
কাদের পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে?
কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের একজন সিনিয়র ডাক্তার জানান, “এর মধ্যে রয়েছেন রোগীদের পরিবারের সদস্য, ডাক্তার, নার্স, ড্রাইভার এবং রোগীদের সংস্পর্শে আসা অন্যান্য ব্যক্তিরা। আমরা তাদের ১৪ থেকে ২১ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছি এবং আমরা তাদের উপর নজর রাখছি।”
একজন ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনায় কিছু ব্যক্তি সংস্পর্শে এসেছেন। আমরা সেই অঞ্চলগুলোর সমস্ত বিবরণ নিচ্ছি, যেখানে তারা দু’জন গিয়েছিলেন এবং কতজন তাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেই ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।”
সূত্রের খবর, নিপা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য দুই সংক্রমিত নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের রক্তের নমুনা কল্যাণীর অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে পূর্ব বর্ধমানের কমপক্ষে ৬০ জন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালক রয়েছেন, ওই মহিলা নার্সের সংস্পর্শে এসেছেন বলে শনাক্ত করা গিয়েছে।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড
একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করার জন্য আমরা বেলেঘাটার (Beliaghata) সংক্রামক রোগ হাসপাতালে একটি পৃথক ওয়ার্ড তৈরি করেছি। আমরা বিভিন্ন প্রোটোকলও অনুসরণ করছি এবং সমস্ত হাসপাতালকে এ ধরনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। যদি কোনও হাসপাতালে নিপা ভাইরাসের লক্ষণযুক্ত কোনো রোগী আসেন, তাহলে তাদের অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিত।”
উল্লেখ্য, নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) একটি মারাত্মক জুনোটিক সংক্রমণ, অর্থাৎ এটি প্রাণীদের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার হল ফলখেকো বাদুড় এবং শূকর হল এর মধ্যবর্তী বাহক। ২০০১ সালে শিলিগুড়ি এবং ২০০৭ সালে তেহট্টে এর প্রাদুর্ভাবের পর, এটি আবারও পশ্চিমবঙ্গে দেখা দিয়েছে। এছাড়া, বিগত কয়েক বছরে কেরালাতে বেশ কয়েকবার এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালে প্রথম প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমে।
