13 Sentenced to Life over Lynching of Anti-Waqf Act: মুর্শিদাবাদ জেলার একটি আদালত মঙ্গলবার ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় এক ব্যক্তি ও তার ছেলেকে পিটিয়ে মারার অপরাধে ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারকে নিহতদের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।
বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জি জানান, এটি দেশের দ্বিতীয় এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রথম গণপিটুনির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সাজাপ্রাপ্তরা
১২ এপ্রিল, সমসেরগঞ্জ থানা এলাকার জাফরবাদে হরগোবিন্দ দাস (৭২) এবং তার ছেলে চন্দন দাসকে (৪২) তাদের বাড়িতে একদল জনতা হত্যা করে।
সোমবার আদালত ১৩ জন অভিযুক্তকে দোষী (13 Sentenced to Life over Lynching of Anti-Waqf Act)সাব্যস্ত করেছে- দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব, ইনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ, মনিরুল শেখ, একবাল শেখ, নুরুল ইসলাম, সা বা করিম, হযরত শেখ, আকবর আলী এবং ইউসুফ শেখ। অভিযুক্তদের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশ
১৩ জন দোষীর প্রত্যেককে ডাকাতির জন্য ১০ বছর, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের জন্য ১০ বছর এবং দাঙ্গার জন্য পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সমস্ত সাজা একই সাথে কার্যকর হবে।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক সুপ্রতিম সরকার বলেন, দ্রুত তদন্তের পর পুলিশ ৫৬ দিনের মধ্যে মামলার সাথে সম্পর্কিত চার্জশিট তৈরি করেছে।
পরিবারের অসন্তোষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দাস পরিবার। হরগোবিন্দের স্ত্রী পারুল দাস বলেন, “আমরা তিনজন দোষীর মৃত্যুদণ্ড চাই, যাদের আমরা ইতিমধ্যেই শনাক্ত করেছি। আমরা আদালতের রায়ে খুশি নই।”
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বিজেপি পরিবারকে ১৩ জন দোষীর মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে উচ্চ আদালতে যেতে সহায়তা করবে।
“আমরা এই রায়ে খুশি নই”, তিনি জানান।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, মামলার তদন্তের জন্য গঠিত এসআইটি (SIT) তিন প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলিকে হালকা করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “এসআইটি মূল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।”
